Motivational Speaker | Consultant

জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো চিন্তা করা উচিত

জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিন এমন একজন মানুষকে, যে হবে আপনার কথাবলার সঙ্গী। যার সাথে আপনি আপনার সুখ-দুঃখ, ভালোমন্দ অকপটে শেয়ার করতে পারবেন। যার সাথে আপনার পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করতে পারবেন। যে আপনার অনুভূতিগুলোকে শ্রদ্ধার সাথে শুনবে; যার কাছ থেকে আপনিও কিছু শিখতে পারবেন। যার সাথে মন খুলে কথা বলা যায় না, তার সাথে কখনো একত্রে বেশিদূর এগোনো যায় না।

(১)

– ‘দোস্ত, মেয়েটার কণ্ঠ যে কি জোশ! জাস্ট ওয়াও!! ….. মনে হয় এই কন্ঠ শুনেই আমি সারাটা জনম কাটিয়ে দিতে পারবো……’

‘আরে শোন, তুই জানিস না। মেয়েটা দেখতে এত্তো সুন্দরী যে, ওর দিকে অপলক তাকিয়ে থেকে আমি আমার জীবন পার করে দিতে পারবো।’

 

(২)

জীবনে যেসব বন্ধুদের কাছে এরকম মধুমাখা, আতিশয্যে ভরা, অতি মাত্রায় আবেগী কথাবার্তা শুনেছি, তাদেরকে বলেছি- কারো সুন্দর কন্ঠই যদি তোর জীবনের সবকিছু হয়, তাহলে এক কাজ কর, কাস্টমার কেয়ার কিংবা এফ.এম রেডিও তে যারা জব করে, সেরকম কোন মেয়েকেই বিয়ে কর। বেশি কিছু তো আর চাওয়া নেই তোর। খালি মধুর কন্ঠ হলেই হয়।
দ্বিতীয়জনকে বলেছিলাম- চেহারার সৌন্দর্যই যদি তোর কাছে সব হয়, তাহলে ফ্যাশন শো করে বেড়ায় এরকম কাউকে বিয়ে করে ফেল। ব্যস! চেহারা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে যাবি, আবার ঘুম থেকে উঠেই চেহারা দেখতে বসে যাবি। আর তো কিছু চাই না।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখলাম, যারাই ‘জোশ কন্ঠ’ আর ‘চাঁদের মতো দেখতে’ ক্রাইটেরিয়া প্রাধান্য দিয়ে বিয়ে করেছে, বিয়ের কিছুদিন পর তাদের সেই জোশ কন্ঠ ‘কর্কশ কন্ঠে’ এবং চাঁদমুখ ‘পেঁচামুখে’ পরিণত হতে খুব বেশিদিন লাগে না।

এর কারণ কী? এর কারণ হলো আবেগ। আর আবেগ সর্বদা ক্ষণস্থায়ী। মোহ কেটে গেলে মনে হবে সব বিস্বাদ।
যারা বিয়ের আগে ‘প্রেম-ভালোবাসায়’ বিশ্বাসী, তারা তাদের প্রিয়তমার সেজেগুঁজে, খোপায় ফুল দেওয়া রূপটাই দেখে। সকালে ঘুম থেকে জাগার পরে তার পেত্নীর (কেউ আঘাত পেলে দুঃখিত) মতো রূপটা বিয়ের আগে দেখার তো বেচারার সৌভাগ্য হয় না।
আবার, সেই প্রিয়তমারা তাদের প্রিয়তমদের জিন্স, শার্ট আর সানগ্লাসে মোড়ানো অবয়বের সাথেই পরিচিত। নিজের রুমটাকে গোয়ালঘর বানিয়ে রাখার অভ্যাসটা তো এরা দেখে বিয়ের পরেই।
সুতরাং, বিয়ের পর যখন মোহ কেটে যায়, তখন আফসোস করে বলে,- ‘কি এক জাহানাম্মের ডিব্বায় আইসা পড়লাম রে….’

যারা এসব অবৈধ সম্পর্কের ধার ধারেনা, সুন্নাহ মেনে বিয়ে করে, তাদের কাছে তাদের প্রিয়তম বা প্রিয়তমার দুই রূপটাই নতুন। তাই কারো মধ্যে কোনরকম আফসোস কাজ করেনা। এখানে মোহ কেটে যাবার পরেও বাড়তি একটা জিনিস থেকে যায়। সেটা হলো- ভালোবাসা।

 

(৩)

আপুদের মধ্যে প্র্যাকটিসিং হবার হার ভাইয়াদের চেয়ে বেশি, আলহামদুলিল্লাহ্‌। আপুরা খুব সহজেই চেইঞ্জ হয়। ভাইয়ারা সিগারেট, গার্লফ্রেন্ড, আড্ডা ইত্যাদি ছাড়তে একটু বেশিই সময় নিয়ে ফেলেন।

তো, প্র্যাকটিসিং হবার পরে কিছু কিছু আপুরা করেন কী, কোন প্র্যাকটিসং ভাইয়াকে বিয়ে করার উপযুক্ত মনে হলেই টুস করে প্রস্তাব দিয়ে বসেন।
এখন, প্র্যাকটিসিং আপু প্লাস প্র্যাকটিসং ভাইয়া মিলে যখন কম্বিনেশন হয়ে যায়, তখন দেখা যায় হুট করে এরা বিয়ে করে বসেন। (আলহামদুলিল্লাহ্‌)

এখানে আমার কিছু বলার আছে। কাউকে বিয়ে করার জন্য তার মধ্যে দ্বীন দেখাটা অবশ্যই ফরজ। কিন্তু, শুধুমাত্র ‘দ্বীন’ দেখেই কাউকে হুট করে বিয়ে করে বসাটা আমার মতে ঠিক নয়। জীবনসঙ্গী নির্বাচনে দ্বীনের পরে আরো বেশকিছু জিনিস দেখতে হবে। এরমধ্যে যেটা সবার আগে সেটা হলো- সাইকোলজি।
এই সাইকোলজি এমন একটা জিনিস, যেটার কম্বিনেশন না হলে পুরো বৈবাহিক জীবনে পস্তাতে হবে।
যায়েদ (রাঃ) এবং জয়নব (রাঃ) এর মধ্যকার বিয়ের কথাই চিন্তা করুন। তাদের মধ্যে কী দ্বীনদারির কোন অভাব ছিলো? তবুও কেনো তাদের ডিভোর্স হয়?

এরকম ইমম্যাচিউর (বয়সের দিক থেকে) প্র্যাকটিসিং আপুরা হুটহাট বিয়ের ডিসিশন নিয়ে ফেলেন। আগ-পিছ কিছু ভাবেন না।
ফলাফল হয় কী, বিয়ের পরে এসে দেখে স্বামীর পরিবার, চারপাশের পরিবেশ, আর্থিক অবস্থার সাথে উনি মানিয়ে নিতে পারছেন না, অথবা মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধরতে পারলে তো আলহামদুলিল্লাহ্‌, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন নতুন দ্বীন প্র্যাকটিস করা আপুরা এই ধাক্কাটা সামলে উঠতে পারেন না। ফলে, ভুল বুঝেন নিজের স্বামীকে। একটা পর্যায়ে গিয়ে ডিভোর্স চান। ফলাফল- দু দু’টো জীবন হতাশার মধ্যে ডুবে যাওয়া।
নতুন নতুন দ্বীনে আসা ভাইয়া এবং আপুদের বলবো, বিয়ের ক্ষেত্রে সময় নিন। চিন্তা করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন- আপনি যে পরিবেশে যাচ্ছেন, তার সাথে সমস্ত অবস্থায়, সমস্ত প্রতিকূলতায় মানিয়ে নিতে পারবেন কী? সবর করতে পারবেন কী? আপনি যে পারবেন, তা কি নিছক আপনার মুখের কথা না অন্তরের বিশ্বাস? আপনি আবার অন্য কারো জীবনকে ‘অনিশ্চিত’ গন্তব্যে ঠেলে দিচ্ছেন না তো?